স্কুল শিক্ষিকার ঘুম নিয়ে সে কি লংকাকান্ড করলেন উপজেলা চেয়ারম্যান - BD Express

সত্যের সন্ধানে অবিচল


ব্রেকিং নিউজ


ad 1

ad 1

Saturday, October 21, 2017

স্কুল শিক্ষিকার ঘুম নিয়ে সে কি লংকাকান্ড করলেন উপজেলা চেয়ারম্যান


সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার খলাছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।  জানা গেছে, গত বুধবার স্কুলটিতে পঞ্চম শ্রেণীর মডেল টেস্ট পরীক্ষা চলছিল।  পরীক্ষা নেয়ার সময় টেবিলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েন শিক্ষিকা দিপ্তি রানী বিশ্বাস।  এ সময় স্কুলটিতে পরিদর্শনে যান জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন।  কিন্তু পঞ্চম শ্রেণীর ওই কক্ষে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রবেশের পর প্রায় ৮-১০ মিনিট অবস্থান করলেও ঘুম ভাঙ্গেনি ওই শিক্ষিকার।  এক পর্যায়ে তার
ঘুমানোর দৃশ্য ক্যামেরা বন্দি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছাড়েন তিনি।  এরপরই ভাইরাল হয়ে যায় ক্লাসে শিক্ষিকার ঘুমানোর ওই দৃশ্য। 

অবশ্য দৃপ্তি রানী বিশ্বাস সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে জানিয়েছেন তিনি অসুস্থ ছিলেন।  ফেসবুক স্টাটাসে তিনি লেখেন, 'তিন দিন ধরে আমার শরীর খারাপ।  সেদিন সকালে স্কুলে যাওয়ার আগে হেড স্যারের কাছ থেকে ছুটি নিতে চেয়েছিলাম।  কিন্তু ছুটি না নিয়ে নিজের দায়িত্বের প্রতি সম্মান আর সহকর্মীদের সহযোগীতার কথা ভেবে স্কুলে গেলাম।  যাওয়ার পর পরীক্ষার ডিউটিতে একপর্যায়ে মাথা ঘোরালে টেবিলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ি।  এমন সময় ছবি তোলেন উপজেলা চেয়ারম্যান।  আমার অপ্রস্তুত ছবিগুলো ফেসবুকে ভাইরাল হয়।  অসুস্থ শরীরে ঘুমানোর জন্য আমি ক্ষমা প্রার্থী। '

বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলতে থাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।  সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম শিল্পী লঘু অপরাধে গুরু দণ্ড শিরোনামে লেখেন, 'শিক্ষিকা হলেও উনিতো মানুষ।  আর মানুষের অসুখ-বিসুখ হতেই পারে।  তাই বলে উপজেলা চেয়ারম্যান এভবে ছবি তুলে একজন শিক্ষিকার সম্মান নষ্ট করতে পারেন না।  যারা নারীদের সম্মান দিতে জানে না তারা কিভাবে জনপ্রতিনিধি হয়..! আমাদের মন্ত্রী-এমপিরা যখন সংসদে বাজেটের মত গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে ঘুমিয়ে কাটিয়ে দেন তখন চেতনাবাজি কোথায় থাকে..?'

বিষয়টির বিরোধিতা করে শিক্ষকদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে পুলিশের এক কর্মকর্তা মাহবুব সুফি নামের একজন লিখেন, 'জাতির বিবেক ঘুমিয়ে আছে, কে ঘুম ভাঙ্গাবে? স্কুল পরিদর্শক ক্লাসে এসে হাজির কিন্তু স্কুল শিক্ষিকা ঘুমিয়ে যাচ্ছেন।  সম্প্রতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল পরিদর্শক ক্লাসে গিয়ে দেখলেন ভর দুপুরে স্কুল শিক্ষিকা ঘুমাচ্ছেন।  প্রাথমিক স্কুল শিক্ষকদের বছরে ১২০ দিন ছুটি তারপরও ঘুমের শেষ নেই, হায়রে অভাগা জাতি আর সেজন্যই বর্তমানে সাধারণ অভিভাবকগণ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন।  বাধ্য হয়ে অভিভাবকরা ছুটছে প্রাইভেট কেজি স্কুল আর কিন্ডার গার্ডেনের দিকে। '

আমেরিকা প্রবাসী সাংবাদিক শাহেদ আলম ওই শিক্ষিকার কাছে ক্ষমা চেয়ে লিখেন, 'আপনার এই সামাজিক হেনস্থার জন্য আমরাই ক্ষমাপ্রার্থী বোন।  আমরা ক্ষমাপ্রার্থী কেননা, আমাদের হাতে একটি ক্যামেরাওয়ালা মোবাইল ফোন আছে।  আমরা ক্ষমাপ্রার্থী কেননা, আমরা কিছু কুলঙ্গার জন্ম দিয়েছি, যারা চাইলেই নারীর ছবি তুলতে পারে, এবং সেটা সামজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে পারে।  আমরা ক্ষমাপ্রার্থী কেননা, আমরা নারীর গৃহস্থলির পরিশ্রমকে পরিশ্রম মনে করি না, বাইরেও যখন সে কাজ করে, তখন তার প্রতি সমীহ দেখাতে পারি না।  আমরা ক্ষমাপ্রার্থী কারণ, নারীর অজান্তে তার পূর্ব অনুমতি ব্যতীত তার কাছা-কাছি যাওয়াকে যৌন নির্যাতন মনে করি না।  আমরা ক্ষমাপ্রার্থী, কেননা, আমরা রাজনীতির কুলাঙ্গর জন্ম দেই।  যারা আমাদের জনপ্রতিনিধি হয়।  আমরা ক্ষমাপ্রার্থী কেননা, এত কিছুর পরেও, তোমার ঘুমিয়ে পড়া ছবি-ই পোষ্ট করতে থাকবো এবং তোমার অবমাননা, করতেই থাকবো। '

বিশ্লেষকরা বলছেন, ওই শিক্ষিকা যদি সত্যিকার অর্থে অসুস্থই হয়ে থাকেন তাহলে পরীক্ষার সময় ছুটি না নিয়ে দায়িত্ব পালন করলেন কেন? ক্লাসের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তার ঘুমানো উচিত হয়নি।  অন্যদিকে ক্লাসের সময় দায়িত্বে অবহেলার জন্য উপজেলা চেয়ারম্যান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে পারতেন।  কিন্তু এমন ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ালেন কেন

No comments:

Post a Comment

Ad 2

Ad 2